অভিনেত্রী সারা বেগম কবরী আর নেই

অভিনেত্রী সারা বেগম কবরী আর নেই

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী, সাবেক সাংসদ সারাহ বেগম কবরী আর নেই। শুক্রবার(১৬ এপ্রিল) রাত ১২টা ২০মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। কবরীর ছেলে শাকের চিশতী গণমাধ্যমকে তার মায়ের মৃত্যুর খবর জানান।করোনা পজেটিভ হবার ‌১১দিনের মাথায় মারা গেলেন কবরী। খুসখুসে কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর করোনার পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন সারাহ বেগম কবরী। ৫ এপ্রিল দুপুরে পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় তিনি করোনা পজিটিভ। ওই রাতেই তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ৭ এপ্রিল রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরের দিন দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে কবরীর জন্য আইসিইউ পাওয়া যায়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ১৯৬৪ সালে ‘সুতারাং’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে নাম লেখান নারায়ণগঞ্জের মেয়ে কবরী। এরপর ‘বাহানা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সারেং বউ’, ‘সুজন সখী’সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। অভিনয় ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে আবির্ভাব কবরীর। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ পায় বেশ জনপ্রিয়তা। ১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর কবরীকে আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি। এই সিনেমা দিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে যান তিনি। পরবর্তীতে তিনি রাজ্জাক, সোহেল রানা, ফারুক, উজ্জ্বল, জাফর ইকবালের মত অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। জাতীয় সংসদ সদস্য ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলাতে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। জন্মস্থান বোয়ালখালী হলেও শৈশব ও কৈশোর বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম নগরীতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।