ঈদে মন কাড়বে মিষ্টি খাবারের সুস্বাদু ৮ পদ

ঈদে মন কাড়বে মিষ্টি খাবারের সুস্বাদু ৮ পদ

আর মাত্র কয়েক দিন পর ঈদ। উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে উঠেছে চারপাশ। বাকি আছে শুধু আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া আর মজাদার খাবার খাওয়া। মজার মজার খাবার দিয়ে আতিথেয়তা করতে না পারলে তো মজাই থাকে না ঈদ আনন্দে। তাই, ঈদের দিন খাবার তালিকায় যোগ করুন সহজ ও সুস্বাদু কিছু রেসিপি। রসুই ঘর মাতিয়ে রাখুন বিভিন্ন রকম মিষ্টি খাবারে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক ঈদে মন কাড়বে এমন ৮ মিষ্টি খাবারের রেসিপি- মাহালাবিয়া

মাহালাবিয়া উপকরণ: তরল দুধ দুই কাপ, কর্নফ্লাওয়ার চার টেবিল চামচ, চিনি চার টেবিল চামচ, গোলাপজল এক চা চামচ, বাদাম কুচি প্রয়োজন মতো। প্রণালী: প্রথমে একটি প্যানে দুধের সঙ্গে বাদাম বাদে বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে নিন। ভালোভাবে মেশানো হয়ে গেলে চুলায় জ্বাল করে নিন। কিছুক্ষণ জ্বাল করার পর ঘন হয়ে গেলে নামিয়ে হালকা ঠাণ্ডা করে নিন। একটু ঠাণ্ডা হলে বাটিতে ঢেলে ফ্রিজে রেখে দিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে বাদাম কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার মাহালাবিয়া। শির খুরমা

শির খুরমা উপকরণ: চিকন লম্বা সেমাই ১০০ গ্রাম, দুধ দেড় লিটার, কনডেন্সড মিল্ক আধা কাপ, ফ্রেশ ক্রিম আধা কাপ, মাওয়া ১/৪ কাপ, চিনি আধা কাপ অথবা স্বাদ মতো, ঘি দুই টেবিল চামচ, এলাচ, দারুচিনি দুইটি করে, কাঠবাদাম, কাজু, পেস্তা, কিসমিস, খেজুর অথবা খোরমা আধা কাপ। প্রণালী: একটি পাত্রে দুধ জ্বাল করতে বসিয়ে দিন। অন্য একটি প্যানে আধা টেবিল চামচ ঘি দিয়ে বাদাম, কিসমিস ও খেজুরগুলো হালকা করে ভেজে একটি বাটিতে উঠিয়ে রাখুন। একই প্যানে বাকি ঘি টুকু দিয়ে এলাচ, দারুচিনিসহ সেমাই অল্প আঁচে হালকা বাদামি করে ভেজে নিয়ে দুধে ঢেলে দিন। অনবরত নাড়তে থাকুন। পাঁচ মিনিট পর অর্ধেক বাদাম, কিসমিস ও খেজুর এবং অর্ধেক মাওয়া বাদে বাকি সব উপকরণ দিয়ে। ঘন হয়ে এলে পরিবেশন পাত্রে ঢেলে নিন। সম্পুর্ণ ঠাণ্ডা হয়ে গেলে সেমাইয়ের ওপর বাকি বাদাম, কিসমিস, খেজুর আর মাওয়া দিয়ে পরিবেশন করুন দারুন মজার সেমাই শির খুরমা। সিম্পল প্লেট ট্রাইফল

সিম্পল প্লেট ট্রাইফল উপকরণ: কেক এর পিস হুইপিং ক্রিম ১৫০ মিলি, কাস্টার্ড সুগার চার টেবিল চামচ, কাস্টার্ড এক কাপ, অরেঞ্জ অথবা স্ট্রবেরি জেলি পছন্দ মতো, টুকরা করা ফল (আম, স্ট্রবেরি, চেরি, ব্ল্যাকবেরি)। প্রণালী: প্রথমে ক্রিম আর কাস্টার্ড সুগার একটা বড় বাটিতে নিয়ে হুইপিং মেশিনের সাহায্যে হুইপ করে নিন। ১০ থেকে ১২ মিনিট করলেই এটা ফেপে উঠবে। এবার একটা ছড়ানো বড় ডিশ বা প্লেট এ কেক এর পিসগুলো ছড়িয়ে নিন। তার উপর জেলি ছড়িয়ে দিন। এরপর দিন গুলানো কাস্টার্ড। তার উপর ফলের টুকরা, আবার কাস্টার্ড দিয়ে তার উপরে হুইপ করা ক্রিমটা দিন। এরপর আবার ফলের টুকরা দিয়ে সাজিয়ে নিন। হয়ে গেল ট্রাইফল। লাচ্ছা সেমাইয়ের কেক

লাচ্ছা সেমাইয়ের কেক উপকরণ: লাচ্ছা সেমাই এক প্যাকেট, ডিম দুইটি, আইসিং সুগার এক কাপ, বাদাম কুচি দুই টেবিল চামচ, কিসমিস এক টেবিল চামচ, ঘি দুই টেবিল চামচ, তেল আধ কাপ। প্রণালী: প্রথমে একটি বাটিতে ডিম, ঘি, তেল ও চিনি ভালো মতো বিট করে নিন। এরপর লাচ্ছা সেমাই ভেঙে এই মিশ্রণে মিশিয়ে নিতে হবে। ওভেন ট্রেতে দিয়ে উপরে বাদাম ও কিসমিস দিতে হবে। ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ২০ মিনিট ইলেক্ট্রিক ওভেনে বেক করবেন। খেয়াল রাখবেন ইলেক্ট্রিক ওভেনের উপরের রড যেনও বেশিক্ষণ না জ্বলে। এতে কেক পুড়ে যেতে পারে। ২০ মিনিট পর নামিয়ে ঠাণ্ডা করে কেটে পরিবেশন করুন। পাকা আমের পুডিং

আমের পুডিং উপকরণ: ডিমের কুসুম তিনটি, চিনি তিন কাপ, পাকা আমের রস এক কাপ, দুধ আধা লিটার, জেলাটিন এক টেবিল চামচ, পানি দুই টেবিল চামচ, ক্রিম, টুকরো করা আম আধা কাপ, ডালিম ও পুদিনা পাতা ১/৪ কাপ। প্রণালী: প্রথমে জেলাটিন পানিতে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। একটি পাত্রে ডিমের কুসুম, চিনি এবং দুধ ভালো করে ফেটে নিন। ভালো করে মেশানো হয়ে গেলে এতে জেলাটিন দিয়ে দিন। জেলাটিন দেয়ার পর চুলা বন্ধ করে দিন। চুলা থেকে জেলাটিন ভালো করে মেশান। তারপর এতে আমের রস দিয়ে দিন। আমের রস দিয়ে আরো কিছুক্ষণ নাড়ুন। এরপর পরিবেশন পাত্রে ঢেলে ফ্রিজে দুই ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। দুই ঘণ্টা পর ফ্রিজ থেকে বের করে ক্রিম, আমের টুকরা, ডালিম এবং পুদিনা পাতা দিয়ে পরিবেশন করুন। লাউয়ের পায়েস

লাউয়ের পায়েস উপকরণ: লাউ এক কেজি, দুধ দুই লিটার, চিনি ৫০০ গ্রাম, ঘি দুই চামচ, কাজুবাদাম কুচি আধা কাপ, কিসমিস আধা কাপ, এলাচ চারটি। প্রণালী: লাউয়ের খোসা ছাড়িয়ে মিহি কুচি করে নিন। কুচানো লাউ ভালো করে চিপে পানি বের করে ফেলুন। এবার একটি পাত্রে দুধ দিয়ে ঘন করে ফুটিয়ে রাখুন। এবার অন্য একটি প্যানে ঘি গরম করুন। গরম হলে এতে কুচানো কাজুবাদামগুলো হালকা করে ভেজে নিন। কাজুগুলো তুলে ঘি তে কুচানো লাউ দিয়ে দিন। হালকা আঁচে ভালো করে ভেজে নিন। ভাজা লাউয়ে ফুটানো দুধ মিশিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে ফেলুন। এক এক করে চিনি, ভাজা কাজুবাদাম ও কিসমিস মেশান। একটু নেড়েচেড়ে এলাচ দিন। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ওপরে বাদাম ছড়িয়ে ঠাণ্ডা হলে পরিবেশন করুন লাউয়ের পায়েস। স্নোবল কাস্টার্ড

স্নোবল কাস্টার্ড উপকরণ: দুধ এক লিটার, ডিম দুইটি, কর্নফ্লাওয়ার দুই চামচ, চিনি এক কাপ, ভ্যানিলা এসেন্স আধা চা চামচ, সিরকা ১/৪ চা চামচ, চেরি ফল (সাজানোর জন্য)। প্রণালী: প্রথমে একটি প্যানে দুধ, চিনি, কর্ণফ্লাওয়ার, ডিমের কুসুম, ভ্যানিলা এসেন্স নিয়ে চুলায় মাঝারি আঁচে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। পানিতে একটা বলক আসলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। এবার ডিমের সাদা অংশ ইলেকট্রিক বিটার দিয়ে বিট করে ফোম বানিয়ে নিন। এবার ফোমের মধ্যে এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ কর্নফ্লাওয়ার ও সিরকা দিয়ে ভালোভাবে বিট করে নিন। ফোমের একটা একটা বল বানিয়ে দুধের মিশ্রণে ঢেলে দিন। জ্বাল মাঝারি আঁচে রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। এই সময় বলগুলোকে একদম নাড়া যাবে না, নয়তো ভেঙ্গে যাবে। বলগুলো ফুলে বড় হলে এবং ২/৩টা বলক আসলে চুলা বন্ধ করে নামিয়ে নিতে নিন। ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে চেরি দিয়ে পরিবেশন করুন দারুণ মজাদার স্নোবল কাস্টার্ড। সাবুদানা ডাবের ডেজার্ট

সাবুদানা ডাবের ডেজার্ট উপকরণ: কচি ডাব দুইটি, চিনি দুই টেবিল চামচ, আগার আগার পাউডার এক টেবিল চামচ, সাবুদানা ১/৪ কাপ, তরল দুধ তিন কাপ (জ্বাল করে এক কাপ বানান), নারকেলের দুধ এক কাপ, কনডেন্সড মিল্ক এক কাপ বা প্রয়োজন মতো, ডাবের শাঁস এক কাপ, জেলো বিভিন্ন রঙের। প্রণালী: প্রথমে ডাবের পানি আর শাঁস আলাদা করে নিন। এবার সবুদানা ভালোভাবে সিদ্ধ করে ছেঁকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। একটি বাটিতে সাবুদানা দিয়ে একে একে সবগুলো উপকরণ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে গেলে গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন মজাদার সাবুদানা ডাবের ডেজার্ট।